প্রেম করা ভাল না খারাপ এই কথা আমরা অনেকের মুখেই শুনতে পাই। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হাজার হাজার তরুণ তরুণীরা হন্য হয়ে খুঁজে বেড়ায় আবার কখনো কখনো ইন্টারনেটে সার্চ করে। কিন্তু এই সঠিক উত্তর পেতে একমাত্র অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছেই প্রশ্ন করতে হবে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে পৃথিবীর ৮০% মানুষ তাদের জীবনের কোন না কোন সময়ে প্রেমে পড়ে।  আজকে আমরা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদেরকে জানাবো প্রেম করা কি ভাল বা প্রেমে পড়লে কি হয়।

প্রেম বলতে কী বোঝায়

প্রেম করা ভাল না খারাপ

প্রেম ভালোবাসার ব্যাখ্যা কি সেটা বুঝতে হলে এর সংজ্ঞা বুঝতে হবে। প্রেমের সংজ্ঞা বয়স ভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে প্রেমের চিত্র দেখা যায় তা মূলত ভালোলাগার একটা প্রতিফলন। কিন্তু এই ভালোলাগা সম্পূর্ণরূপে মনের অজান্তেই হয়ে থাকে এবং ভবিষ্যৎ চিন্তা বলে তেমন কিছু থাকেনা। এটাকে বলা হয় ইমম্যাচিউর প্রেম।

আবার কিছু প্রেমের সম্পর্ক দেখা যায় কলেজ লাইফে কিংবা ইউনিভার্সিটি লাইফে। এই সময়ের প্রেমের সম্পর্ক গুলো হঠাৎ করে কিংবা মিচুয়ালিটির মাধ্যমে শুরু হলেও অনেক সময় তা ভুল বোঝাবুঝি বা বোঝাপড়ার মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক প্রেম আছে যেগুলো সর্বশেষ জীবনে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়।

আরোঃ রোমান্টিক এসএমএস

আরেক প্রেম আছে যা কর্মজীবনে কিংবা শিক্ষাজীবনের শেষে গিয়ে হয়ে থাকে। এই প্রেমের সম্পর্ক মূলত খুব বেশিদিন ঝুলে না থেকে শেষ হয়ে যায় অথবা বিয়ে পর্যন্ত চলে যায়।

[ays_poll id=6]

প্রেম করা ভালো নাকি খারাপ

প্রেম করা ভালো যদি ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণ এর মধ্যে থাকা যায়। আবার প্রেম করা খারাপ যদি তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিন্তু ইসলাম ধর্মে প্রেম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এর দ্বারা বিয়ের আগে একজন আরেক জনের প্রতি আাকৃষ্ট হয় যা হারাম।

স্বাভাবিকভাবেই যদি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় কোন ছাত্র বা ছাত্রী প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত হয় তবে বয়সের কারণে সেটা তাদের মাথায় একেবারে গেঁথে যায়। আর ঠিক এই কারণে সে প্রেমের ব্যাপারটাকে ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে পারে না যার ফলে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অবৈধ সম্পর্কের লিপ্ত হয়ে যায়। 

অন্যদিকে কলেজ কিংবা ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রেমের সম্পর্ক গভীর মেলামেশা পর্যন্ত অনেক সময় গড়িয়ে গেলেও সেখানে সচেতনতা এবং চিন্তাভাবনার একটা পর্যায়ে থেকে যায়। এই কারণে হঠাৎ কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেলেও তাদের পক্ষে হ্যান্ডেল করা সম্ভব যা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবে এই কথা সত্য যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় অনেকেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শুধুমাত্র সময় কাটানো এবং পড়াশোনার পাশাপাশি বিনোদন পাওয়ার লক্ষ্যে। একটা গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে ইউনিভার্সিটি লাইফে ৬০% ছেলে মেয়েরাই কোন না কোন ভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে। 

অন্যদিকে শিক্ষাজীবনের শেষে কিংবা কর্মজীবনের প্রেমের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হয়। এ সময়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালেও পরিবার কিংবা অভিভাবকের পক্ষ থেকে তেমন কোন বাধা দেওয়া হয় না কারণ এই বয়সে সবাই ম্যাচিউর। তবে কিছু পরিবার রয়েছে যারা এ ধরনের সম্পর্কে কোনভাবেই মতামত দেয় না যার ফলে পারিবারিক বিরোধ বা অশান্তি লেগেই থাকে। 

আরো পড়ুনঃ নামের অর্থ

প্রেমের অপকারিতা

প্রেম করার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো জীবনে একটা পিছুটান থেকে যায় যা অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা প্রদান করে। তাছাড়া মানুষের জীবনে অতিরিক্ত একটা ছট কর্নার এর সৃষ্টি হয়ে যায় তার জীবনের অন্যান্য কাজের অনেকটা জায়গা দখল করে থাকে। এর ফলে অন্য কাজ গুলোতে সম্পূর্ণ রূপে মনোযোগ প্রদান করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া ছাত্র জীবনে প্রেম করতে গেলে প্রচুর টাকা ও সময় নষ্ট হয়ে থাকে যা সে সময়ে অত্যন্ত হুমকি স্বরূপ।

প্রেমের উপকারিতা

অপকারিতা থাকলেও প্রেমের অবশ্য কিছু উপকারিতা রয়েছে যার মধ্যে মানসিক উৎফুল্লতা অন্যতম। কথায় বলে মানুষ প্রেমে পড়লে নাকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্মার্ট হয়ে যায়। এই কথা সম্পন্নকে সত্য। তবে যদি অন্যান্য কাজগুলোর পাশাপাশি প্রেমের সম্পর্ক ঠিকমতো হ্যান্ডেল করা যায় তাহলে তেমন কোন সমস্যা হয় না বললেই চলে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে প্রেম করা ভালো না খারাপ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে খারাপ দিকগুলোই বেশি দেখা যায়। সুতরাং কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বে যথা সম্ভব প্রেমের সম্পর্ক গুলোতে এড়িয়ে চলতে হবে। আশা করি প্রেম করা ভালো নাকি খারাপ সে সম্পর্কে উত্তর পরিস্কা্র হয়ে গেছে।