আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আজকের বাজার মূল্য/ আজকের বাজার দর ২০২৩। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সকল দ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের বাজার আজ অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পণ্যের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নিত্য পণ্যের বাজার দর মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরও দেখুনঃ জামার হাতার ডিজাইন

আজকের বাজার দর ২০২৩

আজকের বাজার দর ২০২৩

নিত্য পণ্যের আজকের বাজার মূল্য

ডিমের দামঃ অল্প খরচে ভালো পুষ্টি পাওয়ার জন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কাছে ডিম ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু সেই ডিম খেতেও মানুষ আজ হিমিশিম খাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের মূল্য ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৩০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।শীতকালে ডিমের চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানি কম থাকায় ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী এক বছরে ডিমের মূল্য ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।  আরও দেখুনঃ আল্লাহ পিকচার | আল্লাহর নামের ছবি ডাউনলোড | Allah Wallpaper

মাংসের দামঃ গরু ও দেশি মুরগীর মূল্য অধিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগী। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আমিষের প্রধাণ উৎস হলো ব্রয়লার মুরগী। কিন্তু এই মুরগীর দামও অনেক চড়া। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।মুরগী ব্যবসায়ীদের মতে মুরগীর দাম ও মুরগীর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মুরগীর দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনালি মুরগী প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। দেশি মুরগী ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা ও খাসীর মূল্য ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামঃ মাছের বাজারেও কোনো সুখবর নেই। সব ধরনের মাছের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষের মাছের মূল্য পূর্বে স্থিতিশীল থাকলেও এখন তা কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও বিলের পানি কমে যাওয়াতে মাছ কম ধরা পরছে। তাই এই সব মাছের দামও অনেক চড়া।  আরও দেখুনঃ মেহেদি ডিজাইন ২০২৩ ছবি, মেহেদি ডিজাইন

সবজির দামঃ শীতকালীন শাক সবজিতে বাজার সয়লাব থাকলেও অন্যান্য বারের তুলনায় এইবার সবজির দাম অনেক বেশি। কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। গত সপ্তাহে যে মরিচের দাম ছিল ১০০ টাকা কেজি, আজ তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দামঃ আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও তা অনেক চড়া। মোটা চাল কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও মাঝারি মানের চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হছে। এছাড়া সরু মিনিকেট চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা টিসিবির নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অনেক বেশি।ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে ধান চাষে অধিক খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। তাই ধানের উৎপাদন খরচ বাড়াতে চালের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আটা/ময়দার দামঃ আটার বাজার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন রুটি ছেড়ে ভাত বেশি খাওয়া শুরু করেছে। ২ বছর আগেও খোলা আটার দাম ছিল কেজি প্রতি ২৮ থেকে ৩০ টাকা , তা এখন ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটার মূল্য কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা।অপর দিকে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ ও প্যাকেটজাত ময়দা কেজি প্রতি ৭৫ থেকে ৮০  টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।আটার মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় আটার দাম ৬৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। 

চিনির দামঃ সরকার চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তা মানা হচ্ছে না। কেজি প্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে চিনির দাম ১০৭ টাকা করা হলেও বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে চিনির এই বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে। তবে বিশ্ব বাজারে চিনির যোগান হ্রাস ও দাম বৃদ্ধিও আমাদের দেশে চিনির দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। 

ভোজ্য তেলের দামঃ সয়াবিন তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় তা অনেক বেশি। ১ বছর আগেও যে তেলের দাম ছিল লিটার প্রতি ১৪৫ টাকার আশেপাশে; তা এখন ১৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে আমাদের দেশে তেলের মূল্য এত বেশি। সয়াবিন তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকে এখন পাম অয়েল ও সরিষা তেলের ব্যবাহার বাড়িয়ে দিয়েছে। 

আজকের পেঁয়াজের বাজার দর ২০২৩ঃ এখন পিঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। তাই এর দাম কিছুটা কমতির দিকে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৫ টাকা কমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দাম আরও কমবে বলে সবাই মনে করছে।

             নিত্য পণ্যের আজকের বাজার দর নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো।

                                ০৪/০২/২০২৩ ইং তারিখ অনুসারে

দ্রব্যের নামমূল্য(প্রতি কেজি/লিটার)
চাল(মোটা)৫০-৫৫ টাকা
চাল(মিনিকেট)৬৫-৭৫ টাকা 
আটা(খোলা)৫৮-৬০
আটা(প্যাকেট)৬৫-৭৫
সয়াবিন তেল(বোতল)১৮০-১৮৫
সয়াবিন তেল(লুজ)১৬৮-১৭০
ডিম(ব্রয়লার)১৩০-১৪৫ টাকা ডজন
মুরগী(ব্রয়লার)১৮০-১৯০
মুরগী(সোনালী)৩০০-৩২০
মুরগী(দেশি)৪৫০-৫০০
আলু৩৫-৪০
পিঁয়াজ(দেশি)৩০-৩৫
পিঁয়াজ(আমদানি)৪০-৪৫
চিনি১১০-১২০
কাঁচা মরিচ১২০-১৪০
লবণ৩৫-৪০
রুই মাছ৩৫০-৪৫০
ইলিশ৬০০-১৩০০
গরুর মাংস৭০০-৭২০
খাসির মাংস১০০০-১১০০
মসুর ডাল(বড় দানা)৯৫-১০০
মসুর ডাল(সরু দানা)১৩০-১৪০
আদা(দেশি)১৫০-১৮০
আদা(আমদানি)১০০-২৮০
রসুন(দেশি)১২৫-১৪০
রদুন(আমদানি)১৬০-২০০

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ স্থানভেদে পণ্যের দাম কম বেশি হতে পারে। কাঁচামাল ও মাছের দাম সব সময় উঠানামা করে থাকে। 

আরও দেখুনঃ

একদিকে নিত্যপণ্যের বাড়তি মূল্য অপরদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবন যাপন করা কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠেছে। সরকার যদি অবিলম্বে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তবে দ্রব্য মূল্য মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। টিসিবির নায্য মূল্যের পণ্য দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে হবে ও বাজার মনিটরিং এর পরিমাণও বাড়ালে দ্রব্য মূল্য কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে। 

প্রতিদিনের বাজার জানতে আমাদের পেজে চোখ রাখুন ও আমাদের সাথেই থাকুন। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত শেষ করছি।

Google News